লিওকে নিয়ে আগ্রহের কারণেই ম্যাচ সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল অন্য স্টেডিয়ামে , সেখানে রেকর্ড দর্শকের সামনে গোল করে মাইলফলকের আরেক ধাপ উঁচুতে পৌঁছে গেলেন আর্জেন্টাইন খুদে জাদুকর মেসি ।অন্য মাঠে সরিয়ে নেওয়া ও দর্শকের রেকর্ড এখন মেজর সকার লিগে মোটামুটি নিয়মিত দৃশ্য। এবার ডি.সি. ইউনাইটেড স্বাক্ষী হলো। রেকর্ড দর্শকের সামনে আর্জেন্টাইন জাদুকর দেখালেন নিজের চিরচেনা কারিশমা ও সঙ্গে আরেক আর্জেন্টাইন রদ্রিগো দে পলের গোলে ম্যাচ জিতল ইন্টার মায়ামি।
মেজর সকার লিগে ( MLS) বাংলাদেশ সময় রোববার ভোরে DC United কে ২-১ গোলে হারাল ইন্টার মায়ামি। ম্যাচের ১৭তম মিনিটে গোল করেন দে পল আর ২৭তম মিনিটে লিও মেসি। দ্বিতীয়ার্ধে একটি গোল শোধ করে ডি.সি. কিন্তু তাতে শেষ রক্ষা হলো না। হার দিয়ে লিগ শুরু করা মায়ামির এটি টানা দ্বিতীয় জয়।
ইন্টার মায়ামিতে নাম লেখানোর পর ডি.সি. ইউনাইটেডের মাঠে এটিই ছিল মেসির প্রথম ম্যাচ। আগের দুই বছরে তাদের মাঠে মায়ামির ম্যাচে তিনি খেলতে পারেননি ইনজুরির কারণে। তবে এবার তিনি ফিট থাকায় ম্যাচের আবেদন পৌঁছে যায় ভিন্ন মাত্রায়। নিজেদের ঘরের মাঠ ২০ হাজার দর্শক ধারণ ক্ষমতার অডি ফিল্ড থেকে ডি.সি. ইউনাইটেড ম্যাচটি নিয়ে যায় বাল্টিমোরের এমঅ্যান্ডটি ব্যাংক স্টেডিয়ামে।
আনুষ্ঠনিক হিসেবে দর্শক ছিলেন এ দিন ৭২ হাজার ২৬ জন। ডি.সি. ইউনাইটেডের ঘরের ম্যাচে দর্শকের আগের রেকর্ড ছিল আরএফকে স্টেডিয়ামে ১৯৯৭ সালে ৫৭ হাজার ৪৩১ জন। গ্যালারি ঠাসা দর্শকের সামনে ৭ম মিনিটে ম্যাচের প্রথম সুযোগ পায় ইন্টার মায়ামি। তবে দে পলের শটে জোর ছিল না, গোলকিপারের বেগ পেতে হয়নি বল ধরতে। ১০ মিনিট পর গোলকিপারকে কোনো সুযোগই না দিয়ে করে বসেন দুর্দান্ত এক গোল । ডি.সি. ইউনাইটেডের বক্সে প্রতিপক্ষের একজনের পা থেকে আচমকা বল ছোবল দিয়ে কেড়ে নিয়ে তেলাস্কো সেগোভিয়ার কাছে বাড়ান হার্মান বের্তেরামে। সেগোভিয়ার কাছ থেকে বল পেয়ে জোড়াল কোনাকুনি শটে বল জালে জড়ান ৩১ বছর বয়সী তারকা। ঠিক এর ১০ মিনিট পর মেসির গোল। সেখানে বড় কৃতিত্ব মাতেও সিলভেতির। ২০ বছর বয়সী আর্জেন্টাইন এই উইঙ্গার ডি.সি. ইউনাইটেডের রক্ষণভাগকে বোকা বানিয়ে বুদ্ধিদীপ্তভাবে বল বাড়ান ডি বক্সে। মেসি ছুটে গিয়ে গোলকিপারের মাথার ওপর দিয়ে চমৎকার এক চিপে বল পাঠিয়ে দেন জালে। ৩৮তম মিনিটে আরেকবার গোলের খুব কাছাকাছি যান মেসি। এবার একক প্রচেষ্টায় বল নিয়ে এগিয়ে কয়েকজনকে কাটিয়ে আচমকা শট নেন বক্সের বাইরে থেকে। বল বাইরে চলে যায় প্রায় বার ঘেঁষে।
দ্বিতীয়ার্ধে গোল শোধের জোর চেষ্টা করে ডি.সি. ইউনাইটেড। ৬০ মিনিটের পর থেকে আক্রমণের ধার বাড়ে তাদের। একটি গোল শোধ করতে পারে তারা ৭৫তম মিনিটে। এরপর আর সেভাবে আক্রমণ করতে পারেননি। ৯০ মিনিট শেষে যোগ করা সময়ে আরেকবার গোলের সুবাস পেয়েছিলেন মেসি। তবে খুব কাছ থেকে নেওয়া তার শট দারুণভাবে ফিরিয়ে দেন ডি.সি. ইউনাইটেডের গোলকিপার শন জনসন। সব শেষে ২-১ গোলে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়লো ইন্টার মায়ামি।
Leave a Reply