যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী সুলিভানের জাদুতে মালদ্বীপে চলমান ২০২৬ সালের অনূর্ধ্ব-২০ সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে দুর্দান্ত সূচনা করেছে বাংলাদেশ।
আজ মালের ন্যাশনাল স্টেডিয়ামে ‘বি’গ্রুপের ম্যাচে পাকিস্তানকে ২-০ গোলে হারিয়েছে লাল-সবুজের বাংলাদেশ।
দলের হয়ে অভিষেকেই জোড়া গোল করে দেশকে দারুণ এক জয় এনে দিয়েছেন এই তরুণ ফরোয়ার্ড।
এই জয়ে পূর্ণ ৩ পয়েন্ট নিয়ে সেমিফাইনালের পথে বড় এক ধাপ এগিয়ে গেল মার্ক কক্সের শিষ্যরা।
প্রথমার্ধজুড়ে বল দখলে রেখে একচেটিয়া আধিপত্য বিস্তার করলেও দারুণ ফিনিশিংয়ের অভাবে গোলের দেখা পায়নি বাংলাদেশ।গোলশূন্য ড্র নিয়ে বিরতিতে যায় দুই দেশ। তবে দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে নেমেই খোলস ছেড়ে বেরিয়ে আসে বাংলার যুবারা। ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন দলে নতুন যোগ দেওয়া প্রবাসী ফুটবলার রোনান সুলিভান।
তার সঙ্গে মোরশেদ আলী, ইব্রাহিম নেওয়াজরা পুরো মাঠ দাপিয়ে বেড়িয়েছেন।
অনেক চেষ্টার পর ম্যাচের ৫৪ মিনিটে দারুণ এক ফ্রি-কিক শট থেকে বাংলাদেশকে প্রথম গোল এনে দেন রোনান সুলিভান। ডি-বক্সের বাইরে থেকে বুলেট গতির শটে জাল খুঁজে নেন মেজর লিগ সকারে (এমএলএস) ফিলাডেলফিয়া ইউনিয়নের বয়সভিত্তিক দলের হয়ে খেলা এ ফরোয়ার্ড। তার এই দর্শনীয় গোলটি স্টেডিয়ামে উপস্থিত বাংলাদেশি সমর্থকদের উল্লাসে ভাসানোর পাশাপাশি দলকে মানসিকভাবে অনেক এগিয়ে দেয়।
৫৬ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করার সুযোগ পেয়েও সুযোগ হাতছাড়া করেন মো. মুর্শেদ আলী। ৬১ মিনিটে ডি-বক্স থেকে হেডে বাংলাদেশের জালে বল জড়িয়েছিল পাকিস্তান। তবে গোলরক্ষককে ফাউল করায় গোল বাতিল করে দেন ম্যাচ রেফারি। ৬৫ মিনিটে ডি-বক্স থেকে নেয়া মুর্শেদ আলীর নিচু শট পোস্ট ঘেষে বাইরে চলে যায়।
ম্যাচের ৬৭ মিনিটে সতীর্থ শেখ সংগ্রামের বাড়ানো দারুণ এক লং পাস থেকে দুর্দান্ত হেডে নিজের ও দলের দ্বিতীয় গোলটি করেন রোনান সুলিভান।
সুলিভানের জোড়া গোলের পর পুরোপুরি দিশেহারা হয়ে পড়ে পাকিস্তান। ম্যাচের বাকিটা সময়ও ছিল বাংলাদেশের একচেটিয়া আধিপত্য। বলের দখল নিজেদের পায়ে রেখে পাকিস্তানকে নিজেদের অর্ধে ঢুকতেই দেয়নি লাল-সবুজ জার্সিধারী বাংলার যুবারা। নির্ধারিত ৯০ মিনিটের পর ৭ মিনিট যোগ করা সময় দেওয়া হলেও ম্যাচে ফেরার কোনো সুযোগই তৈরি করতে পারেনি পাকিস্তান।
ম্যাচশেষে বাংলাদেশের পতাকা হাতে সমর্থকদের সঙ্গে জয়ের আনন্দ ভাগ করে নেন সুলিভান ব্রাদার্স।
এ ম্যাচের স্কোয়াডে থাকলেও অবশ্য অভিষেক হয়নি ডেক্লান সুলিভানের। ‘বি’গ্রুপে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের অপর প্রতিপক্ষ শক্তিশালী ভারত। আগামী ২৮ মার্চ গ্রুপের শেষ ম্যাচে ভারতের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। তবে আজকের ম্যাচে পাকিস্তানকে হারিয়ে ৩ পয়েন্ট পাওয়ায় সেমিফাইনালে যাওয়ার পথ প্রায় নিশ্চিত করে ফেলেছে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা।
অনূর্ধ্ব-১৮, ১৯ ও ২০ পর্যায়ে মোট সাতবার খেলেছে বাংলাদেশ। যার মধ্যে চ্যাম্পিয়ন একবার, ২০২৪ সালে।
অন্য ছয়বারের মধ্যে রানার্সআপই চারবার। দুই গ্রুপ থেকে শীর্ষ দুটি করে মোট চার দল যাবে সেমিফাইনালে। গ্রুপ ‘এ’তে স্বাগতিক মালদ্বীপ ছাড়া আছে নেপাল ভুটান ও শ্রীলঙ্কা। গ্রুপ ‘বি’তে বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তান।
৩ এপ্রিল ২০২৬ অনূর্ধ্ব-২০ সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ টুর্নামেন্টের ফাইনাল।
Leave a Reply