কুষ্টিয়ার কুমারখালী থেকে ঢাকাগামী‘সোহার্দ্য পরিবহন’বাসটির ছাড়ার সময় মাত্র ছয়জন যাত্রী নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিলেন। এরপর একে একে বিভিন্ন কাউন্টার থেকে যাত্রী ওঠানো হয়। সব মিলিয়ে বাসটি কমপক্ষে ৫০ জন যাত্রী ছিলেন বলে কাউন্টার মাস্টার জানিয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান বাসটি রাজবাড়ীর দৌলতদিয়ায় ৩ নম্বর ফেরিঘাট এলাকায় পৌঁছালে হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মা নদীতে পড়ে যায়। জানা গেছে, প্রতিদিন বেলা ২টা ২০ মিনিটে সৌহার্দ্য পরিবহন নামে বাসটি কুষ্টিয়া কুমারখালী পৌরবাস টার্মিনাল থেকে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে যায়। আজ বুধবার বিকেলে রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে
ফেরির অপেক্ষায় থাকা বাসটি পন্টুন থেকে নদীতে পড়ে যাওয়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
সৌহার্দ্য পরিবহনের কুমারখালী পৌরবাস টার্মিনালে অবস্থিত বাসটি কাউন্টার মাস্টার মো. তন্বয় শেখ জানান, দুপুরে বাসটিতে ছয়জন যাত্রী নিয়ে ছেড়ে যায়। এরপর খোকসা থেকে ৭ জন, মাছপাড়ায় ৪ জন, পাংশায় ১৫ জন ওঠেন। ইঞ্জিন কাভারেও ৪ জন যাত্রী ছিলেন। এ ছাড়া গোয়ালন্দ ঘাটে কয়েকজন যাত্রী ওঠেন। চালক, সুপারভাইজার ও চালকের সহকারীসহ বাসে অন্তত ৫০ জন ছিলেন।
কাউন্টার মাস্টারের ভাষ্য, ৪০ সিটের বাস হলেও কমপক্ষে ৫০ জন ছিলেন। আবার ফেরিতে ওঠার সময় কেউ কেউ নেমেও যায়। ফলে নদীতে পড়ার সময় কতজন যাত্রী ছিলেন নিশ্চিত নয়। এ ঘটনায় রাত ৮টা পর্যন্ত দুজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে, দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে দায়িত্বপ্রাপ্ত পরিবহনের ঘাট তত্ত্বাবধায়ক মো. মনির হোসেন বলেন,
বিকেল পাঁচটার কিছু পর সৌহার্দ্য পরিবহনের যাত্রীবাহী বাসটি দৌলতদিয়ার ৩ নম্বর ঘাটে আসে। এ সময় ঘাটে থাকা একটি ফেরি যানবাহন নিয়ে মানিকগঞ্জের পাটুরিয়ার উদ্দেশে ছেড়ে যায়। অল্পের জন্য তাতে উঠতে না পারায় অপর ফেরির জন্য বাসটি অপেক্ষা করছিল। সোয়া পাঁচটার দিকে ওই ঘাটে‘হাসনা হেনা’নামের একটি ইউটিলিটি (ছোট) ফেরি এসে সজোরে পন্টুনে আঘাত করে। এ সময় নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে ‘সোহার্দ্য পরিবহন’বাসটি পদ্মা নদীতে পড়ে যায়।
মনির হোসেন আরও জানান,‘চোখের সামনে বাসটি পন্টুন থেকে পদ্মা নদীতে পড়ে গেল, অথচ আমরা কিছুই করতে পারছিলাম না। এ সময় বাসে নারী-শিশুসহ অন্তত ৪০/৫০ জন যাত্রী ছিলেন। ইতিমধ্যে কয়েকজন যাত্রী ওপরে উঠতে পারলেও অধিকাংশ যাত্রী বাসের ভেতর আটকা পড়েছেন।’ এতে বাসটিতে থাকা যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।ঘটনার পরপরই উদ্ধার তৎপরতা শুরু হয়েছে। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি)-এর উদ্ধারকারী জাহাজ ‘হামজা’ ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কাজ চালাচ্ছে। রাজবাড়ীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) তাপস কুমার পাল জানান, বাসটিতে ৫০ থেকে ৬০ জন যাত্রী ছিল। তাদের মধ্যে ৮-৯ জন বের হতে পারলেও অন্যদের অবস্থা সম্পর্কে এখনো কিছু বলা সম্ভব হচ্ছে না। উদ্ধার তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।
Leave a Reply